বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬, ০৪:৩১ পূর্বাহ্ন
আনিছুর রহমান রুবেল, সিরাজদিখান : মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানে লতব্দী ইউনিয়নে দিনে এবং রাতের আঁধারে ভরাট করা হচ্ছে অসংখ্য ফসলী জমি, জলাশয় ও পুকুর। অপরদিকে এসব ড্রেজারের দীর্ঘ পাইপলাইনের সংযোগের জন্য এলাকার গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাঘাট কাটার পাশাপাশি করা হচ্ছে ছিদ্র। এতে সরকারের কোটি কোটি টাকা ব্যায়ে নির্মিত সড়কগুলো এখন হুমকির মুখে পড়েছে।
বুধবার সরেজমিনে লতব্দি ইউনিয়নের নতুন ভাষানচর এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, নতুন ভাষানচর দিয়ে বয়ে যাওয়া ইছামতি শাখা নদীর কয়েকটি স্থানে চলছে অবৈধ ড্রেজার বানিজ্য। ইছামতি শাখা নদীর এই খালটিতে সারি-সারি বালু বোঝায় অবৈধ বাল্কহেড। আর অবৈধ বাল্কহেড আসা বালু ড্রেজার ও পাইপের মাধ্যমে ভরাট করা হচ্ছে বিভিন্ন ফসলের জমি। স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে, নতুন ভাসানচর গ্রামের আমির হোসেনের ছেলে মুক্তার হোসেন, পূর্ব রামকৃষ্ণদি গ্রামের মহাবীর দীর্ঘদিন যাবৎ এই খালটিতে অবৈধ ড্রেজার বাণিজ্য চালিয়ে আসছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ এসব অবৈধ ড্রেজার বাণিজ্যের কারণে হুমকির মুখে পড়েছে জমিসহ রাস্তাঘাট। এছাড়াও একই ইউনিয়নের রামানন্দ গ্রামের ইছামতির নদীতে ড্রেজার বসিয়ে মোল্লা কান্দির মৃত মফিজের ছেলে তোফাজ্জলের ড্রেজারটি দিয়ে লতব্দি ইউনিয়নের রামানন্দ গ্রামের বিভিন্ন ফসলী জমি, পুকুর ও জলাশয় একেরপর এক জমি ভরাট করে যাচ্ছে। আর এসব ড্রেজার স্টেশনে বালু আসছে অবৈধ ব্লাকহেডের মাধ্যমে। লতব্দী ইউনিনের স্থানীয় ইউপি সদস্য কামাল মেম্বার বলেন, আমরা একাধিক বার বাধা দেয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমার কথায় কান দেয় না।
আমরা এলাকাবাসী অনেক বলেছি আমাদের কারো কথাই শোনে না মুক্তার হোসেন। অবৈধ ড্রেজার ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে এবং এতে করে ইছামতি নদীর তীরের আশেপাশের বাড়িঘর ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে এবং সরকারি রাস্তা ধসে পড়তেছে। লতব্দী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান হাফিজ মো. ফজলুল হক বলেন, এই বিষয়টা আমি জানতাম না এইমাত্র জানলাম, আমার দিক থেকে যতটুকু সহযোগিতা দরকার আমি করব, আমি চাই এই ধরনের অবৈধ ড্রেজার ব্যবসায়ী এবং বালু ব্যবসায়ী এবং বালু খেকুদের শাস্তি হোক এবং অতি দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি, যেন অবৈধ ড্রেজার ও বালি উত্তোলন বন্ধ করে দেয়া হয়।
সিরাজদিখান থানার অফিসার ইনচার্জ মুজাহিদুল ইসলাম বলেন, এই বিষয়ে খবর পেয়েছি, উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সাথে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব। এবিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শরীফুল আলম তানভীর বলেন, আমি বিষয়টি জানতে পেরেছি। আমি আইনগত ব্যবস্থা নিব।